Monday, August 5, 2013

Shushunia on Bike.




                                                প্রাগৈতিহাসিক প্রত্ন সামগ্রীতে সমৃদ্ধ  শুশুনিয়া পাহাড় তার দুর্গম রকফেসের জন্য ভারতের ও বহির্বিশ্বের পর্বতারহী গনের কাছে বিশেষ ভাবে পরিচিত। প্রতি বছর ছোটনাগপুর মালভূমির অংশ, বাঁকুড়ায় অবস্থিত এই পাহাড়ে ভীড় জমান বহু পর্বতারোহী । তবে শুধুমাত্র পর্বতারোহণ নয়, পাহাড় সংলগ্ন সুরম্য এই অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রকৃতি বহু পর্যটককেও এই অঞ্চলে ভ্রমনের জন্য উৎসাহিত করে। এর আগে বহুবার গিয়েছি এই পাহাড়ে, তবে তা শুধুমাত্র পর্বতারোহণের জন্যই। তাই পাহাড় সংলগ্ন অঞ্চলকে ভালোভাবে উপলব্ধি করার জন্য, গত বছর  ২৬/১০/২০১২ তারিখে দুর্গা পূজার একাদশীর দিন রওনা হলাম বাইকে চেপে। সহযাত্রী টুবলু , আমার দীর্ঘদিনের ভ্রমণসঙ্গী। ভোর চারটেয় যখন রওনা দিলাম, তখন উৎসবক্লান্ত মহানগরীর ঘুম ভাঙ্গেনি, চারিদিকের উৎসবের আলোকসজ্জা দেখতে দেখতে কলকাতার শুনশান ফাঁকা রাস্তা পেড়িয়ে সহজেই পৌঁছে গেলাম ন্যাশনাল হাইওয়ে NH2-তে। চলেছি মসৃণ জাতীয় সড়ক দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিমি গতিবেগে, একসময় শরতের আকাশে স্বর্ণাভ আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে সূর্যোদয় হল। বাইকে যেতে যেতে এই দৃশ্য সত্যিই মনোরম লাগছিল। যখন বর্ধমান পৌঁছলাম, ঘড়িতে তখন প্রায় ৭টা বাজে। ক্ষিদের চেয়ে চা তেষ্টাই বেশী ছিল, তাই একটা ছোট ধাবায় চা-জলযোগ সারতে বসলাম। হাইওয়ের ধারে ধাবায় চা খাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। চায়ের পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে আলাপ হল বাঁকুড়ার বাসিন্দা এক ভদ্রলোকের সঙ্গে। ওনার উপদেশে ( বা ষড়যন্ত্রে ) আমরা হাইওয়ে ছেড়ে ধরলাম খণ্ডকোষ- সোনামুখি রাস্তা                                    
দামোদর নদীর ওপর থেকে নতুন প্রভাতের সূর্যকে অসাধারণ লাগছিলো। নদীর ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নৌকোগুলি দেখে মনে হচ্ছিলো যেন, নব তাপসকে বরণ করার জন্য অপেক্ষা করছে। সব মিলিয়ে সুরম্য এক পরিবেশ, তার ওপর শরতের মিষ্টি মৃদু বাতাস মনকে আরও সতেজ করে দিচ্ছিল। এইভাবে বেশ কিছুটা যাওয়ার পরই শুরু হল এক বিভীষিকাময় রাস্তার। আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ রাস্তাগুলির মধ্যে অন্যতম হল এই রাস্তা। ভাঙ্গাচোরা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে মনে হচ্ছিল যেন বাইক নয়, কোনও এক ভয়ঙ্কর সমুদ্রে নৌকা বাইছি। চলার গতিবেগ কমে হল মাত্র ২০ কিমি প্রতি ঘণ্টা। তবু অদ্যম্য উৎসাহে এগিয়ে চললাম। আমার ভ্রমণসঙ্গী তখন গান জুড়েছে, “ কত দূর আর কত দূর... বল মা !!! “ এইভাবেই এগিয়ে চললাম প্রায় আরও তিন ঘণ্টা। একসময় ধৈর্যচ্যুতি ঘটল, ভাঙ্গাচোরা রাস্তাকে উপেক্ষা করেই তখন চলতে লাগলাম যত জোরে চালান সম্ভব। আমার Discover 150cc নেহাত খারাপ নয়, আমাকে নিয়ে সেও এগিয়ে চলল গোঁ গোঁ শব্দে।                                                      
    অবশেষে বাঁকুড়া প্রবেশ করলাম। বাঁকুড়ার রাস্তা তুলনামুলকভাবে অনেক ভাল, তাই বেশ আরামেই চলতে লাগলাম। এইভাবে চলতে চলতে প্রবেশ করলাম ছোটনাগপুর মালভুমি অঞ্চলে।  দুরের ছোট ছোট পাহাড়ের সারি দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনও এক রহস্যময় জগতের পরিখা। গাড়ীর গতিবেগ বেড়ে গেল দ্বিগুণ উৎসাহে।    

                       
এক সময় দৃশ্যগোচর হল শুশুনিয়া পাহাড়। দূর থেকে এই পাহাড়কে মনে হয় যেন একটা ছোট হাতি শুয়ে আছে।
শুশুনিয়া পৌঁছাতে প্রায় ১২ টা বেজে গেল। শুশুনিয়া পাহাড়ের কোলে দুএকটা পাইস হোটেল ছাড়া তেমন কোনও ভাল খাবার হোটেল নেই। নেই কোনও ভাল থাকার হোটেল। একটি ইয়ুথ হোস্টেল আছে, প্রায় ভগ্নদশায় পরিতক্ত হয়ে। থাকবার জন্য চলনসই হোটেল বলতে ‘গ্রীন-লজ’। অনেক চেষ্টা করেও, পূর্ব পরিচিত ঝাড়ু বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা গেল না। অগত্যা, গ্রীন লজই ভরসা। আমাদের সৌভাগ্য, একটা ঘর পেয়ে গেলাম মাত্র ২০০ টাকায়। এটি ঠিক হোটেল না বলে সাময়িক আস্তানা বলা যায়। তাতেই লাগেজ রেখে, বাইকটাকে গ্যারেজ করে বেড়িয়ে পরলাম খাবারের সন্ধানে। ভাত, সব্জি, ডিমের কারি, মাত্র ৬০ টাকায় পেট ভরে খেয়ে ফিরে এলাম লজে, বিশ্রাম নিতে। কিন্তু বিশ্রাম নেওয়া কি অত সোজা ? যেখানে শুশুনিয়া আমাদের ডাকছে ? ঘণ্টা খানেক বিশ্রাম নিয়েই আবার বেড়িয়ে পড়লাম। চেনা পথ ধরে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম শুশুনিয়ার প্রান্তরে।



প্রসঙ্গতঃ বলে রাখি, শুশুনিয়ার পাহাড়ের ওপর থেকে সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা সত্যই অনবদ্য। যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে একমত হবেন। বর্ষার জল যে রাস্তা দিয়ে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে আসে, সেইটি হল ওঠার পথ। সংকীর্ণ, তবে দুর্গম নয়। যত ওপরে উঠতে থাকবেন, লোকালয়ের কোলাহল কমে গিয়ে নিস্তব্ধতার দিকে এগিয়ে চলবেন। প্রায় ১৪২০ ফুট ওপর থেকে নিস্তব্ধ, জনমানবহীন এই পাহাড়ের ওপর থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য মনমুগ্ধকার। বহু নীচে, পাহাড়ের ওপর থেকে ছোট ছোট পুকুরগুলির ওপর অস্তমিত সূর্যের প্রতিফলন দেখে মনে হবে যেন অসংখ্য হীরের টুকরো ছড়ান রয়েছে চতুর্দিকে। শুশুনিয়া পাহাড়ের নীচে একটি উষ্ণ প্রসবন আছে। স্থানীয় মানুষের পানীয় জলের উৎস এই কুণ্ডটি থেকে অনবরত জল পরে চলেছে। উষ্ণ প্রসবনটির ধারে একটি নৃসিংহ মূর্তি এবং একটি আশ্রম আছে। আর আছে বেশ কিছু দোকান, যেগুলি, শুশুনিয়া পাহাড় সংলগ্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত পাথর দিয়ে তৈরি ছোট ছোট মূর্তি, ছোট ভাস্কর্য এবং থালা বাসন ইত্যাদি বিক্রয় করে। বাঁকুড়া জেলার বাসিন্দাদের একটি বিরাট অংশের জীবিকা এই ধরনের শিল্পকর্ম। এছাড়া কাঁসার বাসন তৈরি, গহনা তৈরি শিল্পের সাথেও বহু লোক জড়িত আছেন। শুশুনিয়া পাহাড় সংলগ্ন গ্রামে বহু শিল্পী বসবাস করেন, যাঁরা ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতির পুরস্কার প্রাপ্ত। পাথরে খোদাই করা শিল্পকর্মগুলি দারুন সুন্দর, তবে কেনার লভ সামলে ফিরে এলাম।
সন্ধে ঘনিয়ে এল। লজের মালিকের পদবিও কর্মকার, তাই আলাপ জমাতে সময় লাগল না। তার কাছ থেকেই পেলাম বহু তথ্য। তার উৎসাহেই পরদিন বিহারীনাথ যাওয়ার পরিকল্পনা করলাম। যথা সময় রুটি ও সয়াবিনের তরকারি সহযোগে ডিনার সেরে শুয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি। প্রসঙ্গত জানান দরকার যে, আগে থেকে ডিনারের অর্ডার দিয়ে রাখতে ভুলবেন না। শান্ত ছোট জনপদ, রাত নটাতেই সব শুনশান হয়ে যায়। আমরাও ঘুমিয়ে পড়লাম তাড়াতাড়ি।                                                         
পরদিন ঘুম ভাঙ্গলো সকাল ৬ টায় । রাত্রের ঘুমটা বেশ ভালই হয়েছে, ফ্রেশ হয়ে নিলুম খুব তাড়াতাড়ি। রাস্তার ধারের চায়ের দোকান থেকে চা সিঙ্গারা সহযোগে প্রাতরাশ শেষ করেই দুই বন্ধুতে রওনা দিলাম বিহারীনাথের দিকে। গ্রীন লজের সামনের পুকুর, তার উলটো দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম। ফাঁকা রাস্তা, চারিদিকের গ্রাম্য পরিবেশ, তালগাছ, খেজুর গাছের সারি, মাঠের পাকা ধান, কখনও লকাল্য, কখনও বা রাস্তার ধারের বাঁশবন - এই হঠাৎ-ই পথের বাঁকে এসে গাড়ি থামাতে বাধ্য হলাম এক অপূর্ব দৃশ্য দেখে। রাস্তা তখন হঠাৎ-ই যেন নীচু হয়ে বহুদূর- এ এঁকে বেঁকে চলে গেছে একটা কালভারটের দিকে, দূরে দেখা দিগন্তে যেন কোনও পাহাড় এঁকে দিয়েছে কেউ। আর সেই ছোট্ট কালভারটএর নীচ দিয়ে কুলকুল করে বয়ে চলেছে গান্ধেশ্বরী নদী। গঙ্গা পাড়ের বাসিন্দা, তাই এই নদীকে নদী বলে মনে হবে না, বরং একটা ছোট জলধারা বলে মনে হবে। সেই ছোট্ট ব্রিজের ওপর পৌঁছে দেখি আরও চমক। নদীতে ফুটে আছে অসংখ্য শালুক ফুল আর পদ্ম। গোলাপি রঙের নদী। এ দৃশ্য আগে কোনদিনও দেখিনি। বেশ কিছুক্ষন সময় কাটালাম সেখানে।  
                                                                                              
এরপর আবার পথ চলা শুরু। দুরের পাহাড় গুলো আরও কাছে এগিয়ে আসতে লাগলো। রাস্তা ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে চলল বিহারিনাথের দিকে। ছোট ছোট আঁকাবাঁকা চড়াই রাস্তা, চারপাশে ছোট ছোট টিলা – মনে হচ্ছিল যেন অন্য জগতে প্রবেশ করেছি।

                                                                                                        বাঁকুড়ার সবচেয়ে উঁচু পাহাড় এই বিহারিনাথ (১৪৮০ফুট) ।  পাহাড়ের পাদদেশে একটি শিব মন্দির আছে। বেশ কিছুক্ষন কাটালাম সেই মন্দিরে।












   
স্থানীয় মানুষজনের কাছে বড়ই পবিত্র এই মন্দির।                                                                                                                                   বিহারিনাথ কে প্রনাম জানিয়ে এবার চললাম পাঞ্চেত বাঁধের দিকে। ৪.৫ কিলো মিটার বিস্তৃত এই বাঁধটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম জলাধার। এখানে আছে একটি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাঁধের ওপর দিয়ে রাস্তা চলে গেছে পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের দিকে। আমরা বাঁধ পেরিয়ে পৌঁছে গেলাম ঝাড়খণ্ডে। সেখানে একটা চায়ের দোকানে চা পান করে ফেরার পথ ধরলাম।








           পাঞ্চেত বাঁধের ওপর দিয়ে বাইক চালান একটি চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা। পাহাড় দিয়ে ঘেরা দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির পাশ দিয়ে সোজা রাস্তা চলে গেছে ঝাড়খণ্ডের দিকে ।
     

 পাঞ্চেত থেকে ফেরার পথে একজায়গায় রাস্তা দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটা রাস্তা চলে গেছে বিহারিনাথের দিকে, অন্যটা U-turn নিয়ে চলে গেছে গড়পঞ্চকোটের
 দিকে। পাঞ্চেত পাহাড় সংলগ্ন অঞ্চলের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মন্দির ও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে এই গড়পঞ্চকোট । আনুমানিক প্রায় ৩০০ বছর আগে এখানে কোনও এক সমৃদ্ধশালী রাজার দুর্গ ছিল। আজ কালের নিয়মে সবই প্রায় ভগ্নপ্রায়। ইতিহাসের ছাত্র নই, তাই খুব বেশী সময় কাটালাম না এখানে। খিদেয় ততক্ষণে পেটে ছুঁচোয় ডন দিচ্ছে। তাই ফেরার পথ ধরলাম।



ফিরে চললাম শুশুনিয়ার পথে। শুশুনিয়া পৌঁছতে প্রায় ৩ টে বেজে গেল। হোটেলে খাবারের অর্ডার দিয়ে ফিরে গেলাম গ্রিনলজের ঘরে। রাইডিং গিয়ার খুলে ফেলে ফ্রেশ হবার জন্য নেমে গেলাম সামনের পুকুরে। পুকুরের শান্ত জলে শুশুনিয়ার ছায়া পরে দৃশ্যপট আরও উপভোগ্য করে তুলেছে। ঠাণ্ডা জলে বেশ কিছুক্ষন গা ডুবিয়ে বসে রইলাম। পথের ক্লান্তি দূর হয়ে খুব তাড়াতাড়িই চাঙ্গা হয়ে গেলাম। এরপর মাংস ভাত সহযোগে মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে ফিরে এলাম গ্রীনলজে। জাতিতে বাঙ্গালী, তাই এর পর একটু ভাতঘুমও দিয়ে নিলুম। বিকেলের সূর্য যখন প্রায় অস্তাচলে, আমরা বেরলাম একটু পায়চারি করতে গ্রামের পথে পথে।
আঁধার নামলেও আমরা পায়ে পায়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলাম। পোড়া ইঁটের বাড়ী গুলোর মধ্যে টিমটিম করে ছোট আলো জ্বলছে। ছোট্ট জনপদ, একটা ছোট বাজার আছে। গ্রামের ভেতর স্কুলের পাশ দিয়ে হেঁটে এগিয়ে চললাম। অনুপম সেই পরিবেশ। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে, শান্ত নির্জনতায়, স্নিগ্ধ চন্দ্রালোকে হেঁটে বেড়াতে বেশ ভালই লাগছিলো। ঠিক করলাম, পরদিন বিষ্ণুপুর হয়ে ফিরব। সেই মত সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়লাম।
                        পরদিন খুব ভরে ঘুম ভাঙ্গল। নিজেদের প্রস্তুত করে, লজের মালিকের কাছে বিদায় নিয়ে, চা জলখাবার খেয়ে শুরু করলাম যাত্রা। শুশুনিয়া পাহাড়ের মাথার ওপর থেকে তখন উঁকি দিচ্ছে নব প্রভাতের সূর্য। সবুজ শুশুনিয়া পাহাড়, তার সামনে সোনালি পাকা শস্যপূর্ণ ক্ষেত, দূরে ছোট ছোট ঘর বাড়ি, মনে হচ্ছিল যেন প্রকৃতির চিত্রপটে কোনও এক দৈব চিত্রকর এঁকে রেখে গেছেন এই সমস্ত কিছু। আজ ফেরার পালা, মন তাই বিষণ্ণ, তবুও নতুন কিছু দেখার আশায় ছুতে চলল  আমার বাইক। এই পথের অনেক খানি পথ গেছে লোকালয়ের মধ্য দিয়ে, তাই বেশ সাবধানেই নিয়ন্ত্রিত গতিতে পথ চলা। এ পথে জয়পুর জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে বাইক চালানও একটা দারুন অভিজ্ঞতা।


















বিষ্ণুপুর সম্বন্ধে নতুন কিছু বলার নেই। প্রাচীন সমৃদ্ধশালী এই নগরী বাংলার এক গৌরবময় অধ্যায়ের সাক্ষ্যবহন করছে। যখন বাঙ্গালিরা বাংলা বলতে গর্ব করতেন, ইংরাজি বলে গর্বিত হতেন না। বিষ্ণুপুর শহরে আছে প্রচুর মন্দির ও স্থাপত্য। যা ভাল ভাবে দেখতে আর উপলব্ধি করতে সারা দিন লেগে যাবে।


এই সব দেখে, ফেরার পথে, আরামবাগ, তারকেশ্বর হয়ে রাত্রি প্রায় ৮ টা নাগাদ বাড়ি ফিরছিলাম। এই যাত্রায় আমাদের খরচ হয়েছিল মাত্র ৭০০ টাকা জনপ্রতি ( পেট্রল খরচ আলাদা )।